
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এবার তাইওয়ান ইস্যুতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যকার পুরোনো উত্তেজনা নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। তাইওয়ানে চীন আগুন নিয়ে খেলছে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এমন বক্তব্যের পাল্টা জবাবে বেইজিং বলেছে, যেকোন হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকলেও তাইওয়ানে সামরিক অভিযানের যথেষ্ঠ সক্ষমতা রয়েছে চীনের।
ইউক্রেন যুদ্ধের দামামার মধ্যেই যুদ্ধাস্ত্রের গর্জনে প্রকম্পিত চীন সাগর। পূর্বাচঞ্চলীয় জলসীমা থেকে বিমান বিধ্বংসী ব্রেভ উইন্ড মিসাইল ছুড়ছে তাইওয়ান। আছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রও।
যেকোন সময় চীন আগ্রাসন চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ঝালিয়ে নিচ্ছে তাইওয়ান। সাগরের পাশাপাশি আকাশ এবং স্থল পথেও মহড়া চালাচ্ছে, প্রতিনিয়ত চীনের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে টিকে থাকা ৩৬ হাজার স্কয়ার কিলোমিটারের দ্বীপ রাষ্ট্রটি।
স্বাভাবিকভাবেই এতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পাচ্ছে তাইওয়ান। সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে চীনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে বিপদ নিয়ে খেলছে চীন। তাইপেতে কোন রকম আগ্রাসন হলে, ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি কানে তুলছে না চীন। ওয়াশিংটনকে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দেশটির সামরিক বাহিনীর। চীনা সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র উ চিয়ান বলেছেন. ‘তাইওয়ান চীনে অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পায়তারা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য এ অঞ্চলে আধিপাত্য বিস্তার করা। স্পষ্ট করে বলতে চাই, নিরাপত্তার জন্য হুমকি, এমন যেকোন শক্তিকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত আছে আমাদের সেনাবাহিনী।’
বেইজিংয়ের এমন বক্তব্যের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের সংযোগ খুঁজছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকলেও, প্রয়োজন হলে চীন তাইওয়ানে সামরিক অভিযান থেকে পিছ পা হবে না বলে মত তাদের। পূর্ব এশিয়া বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ম্যাকগ্রেগর বলেছেন, ‘জাতীয় ইস্যু হওয়ায় কোন চীনা নেতাই তাইওয়ান থেকে পিছু হটতে পারবেন না। অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর এশিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। তাইওয়ানে চীন এ সুযোগ যে ব্যবহার করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক কর্মকাণ্ড অতীতের যেকোন সময়ের থেকে বাড়িয়েছে চীন। এ অবস্থায় চীন সাগর ক্ষমতাধরদের শক্তি প্রদর্শনের আরেকটি ক্ষেত্র হয় কি-না, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।